খেজুরের পুষ্টিগুণ,খেজুর খাওয়ার উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম
আমরা কমবেশি সবাই খেজুর খেয়ে থাকি । বিশেষ করে রমজান মাসে সবাই খেজুর খাই ।
খেজুর খুবই পুষ্টিকর এবং উপকারীএকটি খাবার । শুধুমাত্র রমজান মাসে খেজুর না খেয়ে
সারা বছরই খেজুর খাওয়া উচিত । এই পোস্টটিতে আমরা খেজুরের পুষ্টিগুণ খেজুর
খাওয়ার উপকারিতা এবং খেজুর খাওয়ার নিয়ম তুলে ধরার চেষ্টা করেছি ।

ভূমিকা
ছোট বড় সবাই খেজুর খেতে পছন্দ করে । খেজুর পছন্দ করেনা এমন লোক খুঁজে পাওয়া
মুশকিল । নিয়মিত খেজুর খেলে বিভিন্ন পুষ্টির ঘাটতি যেমন পূরণ হয় তেমনি অনেক
ধরনের রোগ বালাই থেকে সুস্থ থাকা যায় । আজকে আমরা আপনাদের জানাবো খেজুরের
বিভিন্ন জাত, খেজুরের পুষ্টিগুণ, খেজুর খাওয়ার উপকারিতা এবং খেজুর খাওয়ার নিয়ম
সম্পর্কে ।
খেজুরের জাত বা প্রকারভেদ
খেজুরের জন্মস্থান মরুর দেশ তথা সৌদি আরব । সৌদি আরবের বিভিন্ন জাতের খেজুর জন্মে
থাকে । যেমন আজওয়া, মরিয়ম, আনবারা,সাফাওয়ি,বারহি, সেগাই,মুসকানি,খালাস,
ওয়াসালি,শালাবি,আমবার ডেইরি,মাবরুম, সেফরি, খুদরি ইত্যাদি । তবে এত সব জাতের
মধ্যে আজওয়া এবং মরিয়ম সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সুস্বাদু ।
খেজুরের পুষ্টিগুণ
খেজুর অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার । কয়েক ধরনের ভিটামিন সহ বহু পুষ্টিগুণে
ভরপুর এই খেজুর । খেজুরে রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি এবং ভিটামিন কে এছাড়াও রয়েছে
আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ম্যাগনেসিয়াম , ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম,
পটাশিয়াম, প্রোটিন, শর্করা , আমিষ এবং আরও অন্যান্য উপাদান ।
খেজুর খাওয়ার উপকারিতা
খেজুরের বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিগণ বিদ্যমান থাকায় খেজুর খাওয়া অত্যন্ত উপকারী ।
আসুন খেজুর খাওয়ার বিভিন্ন উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেই ।
শরীরে এন্টিবডি তৈরি করে ঃ খেজুর আমাদের শরীরে এন্টিবডি তৈরির মাধ্যমে রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় আমাদেরকে সুস্থ থাকতে সহায়তা করে ।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে ঃ আমাদের অনেকেরই উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে । খেজুর
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে থাকে । তাই যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তারা নিয়মিত
খেজুর খেতে পারেন
রক্তস্বল্পতা দূর করে ঃ অ্যামোনিয়া বা রক্তস্বল্পতা অনেকেরই হয়ে থাকে ।
খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন যা রক্তস্বল্পতা দূরীকরণের প্রধান উপাদান ।
তাই রক্তস্বল্পতা সমস্যা থাকলে নিয়মিত খেজুর খান ।
কোষ্ঠকাঠিন্য সারায় ঃ খেজুরের প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে ।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার অন্যতম উপাদান হচ্ছে এই ফাইবার । কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ থেকে
মুক্তি পেতে খেজুর খেতে পারেন ।
যৌন শক্তি বাড়ায় ঃ যৌন দুর্বলতায় আক্রান্ত ব্যক্তি নিয়মিত খেজুর খেলে
হয় তা থেকে মুক্তি পেতে পারেন । নারী এবং পুরুষ উভয়ই এই রোগে ভুগে থাকলে খেজুর
খান ।
দুর্বলতা দূর করে ঃ খেজুর আমাদের শরীরে দ্রুত শক্তি প্রদান করে । খেজুরের
প্রচুর পরিমাণে এনার্জি রয়েছে । তাই কেউ শরীর দুর্বল অনুভব হলে খেজুর খেতে পারেন
। খেজুর শারীরিক দুর্বলতা দূরীকরণে অত্যন্ত কার্যকরী ।
হাড় মজবুত করে ঃ হাড় গঠন এবং মজবুত করার অন্যতম প্রধান হচ্ছে
ক্যালসিয়াম । খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকায় নিয়মিত খেজুর খেলে হাড়
মজবুত হয় ।
দৃষ্টি শক্তি বাড়ায় ঃ খেজুর দৃষ্টি শক্তি বাড়াতে এবং রাতকানা রোগ
প্রতিরোধে অত্যন্ত উপকারী একটি ফল । খেজুরের বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন থাকায় খেজুর
আপনার দেশে শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে থাকে । তাই আপনাদের কারো যদি চোখের কোন
সমস্যা থাকে তাহলে খেজুর খেতে পারেন ।
তারণ্য ধরে রাখে ঃ শরীরের ত্বক বা চামড়ার মাধ্যমে আমাদের বয়সের
বহিঃপ্রকাশ ঘটে থাকে । কিন্তু আমরা কি এটা জানি যে খেজুর আমাদের ত্বককে সতেজ রাখে
এবং শুষ্কতা হতে রক্ষা করে । তাই তারণ্য ধরে রাখতে আপনি নিয়মিত খেজুর খান ।
হার্ট সুস্থ রাখে ঃ খেজুর আমাদের শরীরের বিভিন্ন ক্ষতিকর কোলেস্টেরল দূর
করে আমাদের হার্টকে সুস্থ রাখে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে ।
এছাড়া খেজুরে রয়েছে পটাশিয়াম যা হৃদরোগ প্রতিরোধ করে থাকে ।
মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায় ঃ খেজুর মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে
অত্যন্ত কার্যকরী । খেজুর স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা
বাড়িয়ে থাকে ।
হজম শক্তি বৃদ্ধি করে ঃ খেজুর পেট থেকে বিভিন্ন দূষিত পদার্থ বের করে
লিভারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং খাদ্য পরিপাক ক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে
সহায়তা করে । নিয়মিত খেজুর খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় ।
খেজুর খাওয়ার অপকারিতা
খেজুর খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু এবং উপকারী হলেও খেজুরেরও কিছু অপকারিতা রয়েছে ।
আসন জেনে নেই খেজুরের কি কি অপকারিতা রয়েছে ।
- খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম অতিরিক্ত খেজুর খেলে কিডনির ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে । কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি খেজুর না খাওয়াই ভালো ।
- যাদের শরীরে অতিরিক্ত ওজন রয়েছে এমন ধরনের ব্যক্তির খেজুর খাওয়া ঠিক হবে না । কারণ খেজুর শরীরের ওজন বৃদ্ধি করে থাকে ।
- অতিরিক্ত খেজুর খেলে অনেক সময় হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে । তাই অতিরিক্ত খেজুর না খাওয়াই ভালো ।
খেজুর খাওয়ার নিয়ম
আপনি কিছু নিয়ম মেনে খেজুর খেলে খেজুরের উপকারিতা পুরোপুরি পেতে পারেন । খেজুর
খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানতে নিচে পড়ুন ।
- সকালে ঘুম থেকে উঠে হাতমুখ ধুয়ে আপনি দুই থেকে তিনটা খেজুর খেয়ে আপনার দিন শুরু করতে পারেন ।
- যারা ব্যায়াম করেন তারা ব্যায়াম করার অন্তত ৩০ মিনিট আগে খেজুর খেলে ব্যায়াম করার সময় সহজে ক্লান্ত হবেন না ।
- যাদের যৌন দুর্বলতা রয়েছে তারা কয়েকটি খেজুর দুধের সাথে জাল দিয়ে খেতে পারেন । তাহলে যৌন দুর্বলতা দূর হবে । শুক্রাণুসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে ।
- কয়েকটা খেজুর সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে খেতে পারেন । তাতে অনেক উপকার পাবেন ।
- বাচ্চাদেরকে বিভিন্ন খাবারের সাথে চিনির পরিবর্তে খেজুর মিশিয়ে খাওয়াতে পারবেন । এতে বাচ্চাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পুষ্টি উপাদান পূরণ হবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে ।
শেষ কথা
খেজুরের বিভিন্ন উপকারিতা সম্পর্কে আপনাদেরকে আমরা জানানোর চেষ্টা করেছি । আশা
করি আপনি আমাদের পোস্টটি পড়ে খেজুরের উপকারিতা এবং খেজুর সম্পর্কে অনেক কিছু
জানতে পেরেছেন । আরও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে জানতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটটি
ভিজিট করুন ।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url